যাদের ফজরের ঘুম ভাঙ্গে না

যাদের ফজরের ঘুম ভাঙ্গে না

সহজে ঘুম না-ভাঙার রোগ বোধহয় অনেকেরই আছে। আমার অবশ্য পাতলা ঘুম, হালকা আওয়াজেই লাফ দিয়ে উঠে বসে পড়ি। তবে অনেকেই আছেন, ওপর দিয়ে গাড়ি চলে গেলেও ঘুম ভাঙবে না অবস্থা।

এই সমস্যার কারণে অনেকের নামাজ কাযা হয়ে যায়। যতই অ্যালার্ম বাজুক, ঘুম আর ভাঙে না। কেউ কেউ তাহাজ্জুদে উঠতে চাইলেও উঠতে পারেন না। তাদের জন্য সহজে নির্দিষ্ট টাইমে ঘুম ভাঙার একটি পরীক্ষিত আমল বলে দিচ্ছি। হেফজখানায় পড়া অবস্থায় হুজুর শিখিয়েছিলেন। তখন থেকেই এটা আমল করি আলহামদুলিল্লাহ।

আমলটি হলো, ঘুমানোর সময় সূরা কাহাফের শেষ দুই আয়াত পড়ে আপনি যখন উঠতে চান ঠিক সে সময়টা মনে মনে ভাববেন, এরপর চুপচাপ ঘুমিয়ে যাবেন। ইনশাআল্লাহ, আবারও বলছি, ইনশাআল্লাহ আপনার ঘুম ভাঙবেই ভাঙবে।

এমনকি আপনি যদি মনে মনে ভাবেন, ঠিক তিনটা ছয় মিনিটে ঘুম থেকে উঠবেন, ঠিক তখনই আপনার ঘুম ভেঙে যাবে ইনশাআল্লাহ। এখন আপনি যদি আলস্যের আধার হন তাহলে তো ঘুম ভাঙলেও উঠতে পারবেন না। এর জন্য প্রবল আগ্রহ লাগবে।
১.
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা.-এর কাছে এক ব্যক্তি এসে বলল— মনে মনে সর্বদাই ইরাদা/ইচ্ছা থাকে রাতে উঠে তাহাজ্জুদ পড়ব, কিন্তু ঘুমের প্রবলতার কারণে পারি না। তার কথা শুনে ইবনে আব্বাস রা. বললেন— যখন তুমি ঘুমাতে যাবে, সূরা কাহাফের শেষ দুই আয়াত পড়ে শোবে।এতে তুমি যখনই ঘুম থেকে ওঠার ইচ্ছে করবে আল্লাহ তখনই তোমায় জাগিয়ে দিবেন।

(তাফসিরে সালাবির সূত্রে তাফসিরে মাআরিফুল কুরআন ৫/৬৬৪, আনওয়ার বুক ডিপু দেওবন্দ)

২.
বিশিষ্ট তাবেয়ি যির ইবনু হুবাইশ রহ. বলেন— যে ব্যক্তি সুরা কাহাফের শেষ দুই আয়াত পড়ে ঘুমাবে, সে যে সময় ওঠার নিয়ত করবে সে সময়ে জাগ্রত হয়ে যাবে।
(সুনানে দারেমি বর্ণনা নং, ৩৭২৭)

৩.
হযরত আবদাহ রহ. বলেন— আমি এই আমলটি পরীক্ষা করেছি এবং তিনি যেভাবে বলেছেন ঠিক সেরকমই পেয়েছি, ( আলহামদুলিল্লাহ) ৷
( সুনানে দারেমি বর্ণনা নং, ৩৭২৮)

৪.
বিশিষ্ট মুহাদ্দিস হযরত জিকরুল্লাহ খাঁন সাহেব দা.বা. কিছুদিন পূর্বে যাত্রাবাড়ী জামিয়াতুল মাআরিফ মাদরাসার উদ্বোধনী দরসে ছাত্রদের উদ্দেশ্যে বয়ানে বলেন— সুরা কাহাফের শেষ দুই আয়াতের এই আমলটি এতটাই পরীক্ষিত যে, আজ পর্যন্ত কেউ এটা করে ভিন্ন কোনো ফলাফল পায়নি৷ এমনকি আপনারা যদি মনে করেন তিনটা পঞ্চাশ মিনিট পঞ্চাশ সেকেন্ডে উঠতে উঠবেন , দেখবেন কোনো অজানা কারণে ওই সময় আপনার চোখ খুলে গেছে। তখন আশপাশে ঘড়ি থাকলে মিলিয়ে নিবেন।

.
বি.দ্র. : এটা হাদিসে বর্ণিত কোনো আমল নয়। বুজুর্গদের/সালেহীনদের তাজরিবা/অভিজ্ঞতা । এখানে আমি কিতাব ও বর্তমান সময়ের অন্যতম একজন ইলমী ব্যক্তিত্ব ও বুজুর্গ মানুষ হযরত খাঁন সাহেব হুজুরের হাওয়ালায়(সূত্রে) কথাগুলো বললাম। এবং নিজেও পরীক্ষা করে উপকৃত হয়েছি, আলহামদুলিল্লাহ ৷ আশা করি আমাদের তাহাজ্জুদ বা অন্য যেকোনো সময় ঘুম ভাঙ্গানোর নিয়তে পড়লে উপকৃত হবেন ইনশাআল্লাহ।

লিখাঃ মুফতি তানজিল আরেফিন আদনান।

Leave a Reply

Your email address will not be published.